সর্বশেষ

3/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

পাগলা মসজিদের টাকা গুণতে লাগলো ১০ ঘণ্টা, পাওয়া গেল সাত কোটিরও বেশি

 

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ যেন টাকার খনি। শত শত মানুষের সামনে স্তুপ করা আছে টাকা। সবাই ব্যস্ত টাকা গণনায়। পাগলা মস‌জি‌দের দান সিন্দুক থেকে পাওয়া টাকা গণনার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে তিন মাস পর পর। এবার সিন্দুক থেকে পাওয়া গেল ২৮ বস্তা টাকা। আছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ সোনাদানা।হাই, পাগলা মসজিদের এই ঘটনা সম্পর্কে বলা যায় যে, ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় এই মসজিদের দানবাক্স থেকে সাত কোটিরও বেশি টাকা গণনা করা হয়। 

এই মসজিদটি কিশোরগঞ্জে অবস্থিত এবং এর দানবাক্সে প্রায়ই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়, যা নিয়মিতভাবে গণনা করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত দীর্ঘ সময় নেয়, কারণ দানকারীদের সংখ্যাও প্রচুর থাকে। এই মসজিদকে ঘিরে মানুষের ধর্মীয় আস্থা ও দানের প্রচলন বেশ প্রবল, যা এই বিপুল অর্থের পরিমাণ থেকে বোঝা যায়।



শনিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে টানা ১০ ঘণ্টা গণনার পর সন্ধ্যা ৭টায় জানা যায় টাকার পরিমাণ। গণনা শেষে দেখা যায় তিন মাস ২৬ দিনে মসজিদটির দান সিন্দুক পাওয়া টাকার পরিমাণ ৭ কোটি ২৩ লাখ ১৩ হাজার।

 
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
টাকা গণনায় অংশ নেন প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, ৭০ জন ব্যাংক কর্মকর্তা -কর্মচারিসহ প্রায় ৪০০ জন।

সাধারণত তিন মাস পর পর পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক খোলা হলেও এবার ৩ মাস ২৬ দিন পর শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় পাগলা মসজিদের ৯টি দান সিন্দুক খোলা হয়।
 
মস‌জিদ প‌রিচালনা ক‌মি‌টির সভাপ‌তি কি‌শোরগ‌ঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, দানের টাকা জমা রাখা হয় মস‌জি‌দের না‌মে খোলা একটি ব‌্যাংক একাউ‌ন্টে। প্রায় ১১৫ কো‌টি টাকা ব‌্যয়ে বহুতল মস‌জিদ কম‌প্লেক্স নির্মা‌ণের উদ্যোগ নেয়া হ‌য়ে‌ছে। পাগলা মসজিদের টাকা নয়ছয় করার কোনো সুযোগ নেই। সুক্ষ্মভাবে প্রতিটি টাকার হিসাব রাখা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ ও ঘাটাইল সেনানিবাসের ১৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তরিকুল ইসলাম, ঘাটাইল সেনানিবাসের ২৩ ফিড রেজিমেন্ট আর্টিলারির সিইও এবং কিশোরগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজুল কবীরসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।
 
জনশ্রুতি আছে, প্রায় আড়াই'শ বছর আগে একজন আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা চ‌রে। ওই পাগল সাধকের মৃত‌্যুর পর এখা‌নে নি‌র্মিত মস‌জিদ‌টি পাগলা মসজিদ হিসেবে প‌রি‌চি‌তি পায়। পাগলা মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এমন ধারনা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ‌্য মানুষ এ মসজিদে দান করে থাকেন। বি‌শেষ ক‌রে প্রতি শুক্রবার এখা‌নে হাজার হাজার মানু‌ষের ঢল না‌মে।
 
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ এপ্রিল মসজিদের দানবাক্স থেকে সকল রেকর্ড ভেঙে পাওয়া গিয়েছিল ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা।